ব্যবসায়-বাণিজ্য
ছবি: সংগৃহীত

বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে বড় করছাড়ের প্রস্তাব।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

পরিবেশ দূষণ কমানো এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন বাজেটে আমদানি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি), প্লাগ-ইন হাইব্রিড যানবাহন (পিএইচইভি) এবং চার্জিং অবকাঠামোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য শুল্ক-কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে যে উচ্চ করভার বিদ্যমান, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী নির্দিষ্ট মূল্যসীমার মধ্যে থাকা ইভি গাড়ির ক্ষেত্রে করহার ৯৩ শতাংশের কাছাকাছি থেকে কমিয়ে ৬৪ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করা হতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে সম্পূর্ণ শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাক আমদানিতেও দীর্ঘমেয়াদী করছাড়ের সুবিধা ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে। ১,৮০০ সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিনক্ষমতার নতুন পিএইচইভি গাড়িতে নিয়ন্ত্রক শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে মোট করভার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে ২,০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রেও করহার হ্রাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে বর্তমানে যে কর আরোপ রয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে দেশে ইভি চার্জিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ সহজ হবে বলে মনে করছে নীতিনির্ধারকরা।

অন্যদিকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিন (আইসি) চালিত গাড়ির ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে মাঝারি ক্ষমতার পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে শুল্ক-কর আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করবে।

তবে অন্যান্য শ্রেণির গাড়ির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রাখার বিষয়টিও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মতামত দিন