অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারিতে চাঙা তেলের বাজার, ব্যারেলপ্রতি লাফিয়ে বাড়ল তেলের দাম।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বক্তব্যের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৬৫ ডলার বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩ দশমিক ১০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৮৩ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ০৩ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কাই মূলত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মঙ্গলবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘটিত বড় ধরনের গোলাগুলির পর থেকেই জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়তে শুরু করে।

এর মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত না হলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর একপর্যায়ে তেলের দাম আরও প্রায় ৩ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যায়।

পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনী গোপন অভিযান পরিচালনা করেছে। তার ভাষ্য, ১০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি।

তিনি আরও দাবি করেন, ওই পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কয়েক গুণ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ২৫০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারত।

এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প তেহরানকে উদ্দেশ করে লিখেছিলেন, শান্তি আলোচনা দীর্ঘায়িত করার ফল ‘খুবই কঠিন’ হবে। তার সেই বার্তার পর থেকেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মতামত দিন