রাজশাহীর আম যাচ্ছে ফ্রান্সে।
রাজশাহীর বাঘার সুস্বাদু আম আবারও আন্তর্জাতিক বাজারে যাত্রা শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের উদ্দেশে ৫৫০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে, যার মাধ্যমে বিদেশে আম রপ্তানি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে হিমসাগর ও আম্রপালি জাতের এই আমের চালান প্রস্তুত করে পাঠায় স্থানীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সাদি এন্টারপ্রাইজ। রপ্তানির জন্য নির্বাচিত আমগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও প্যাকেজিং করা হয়েছে।
রপ্তানিকারক সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে পাঠানো আমের মধ্যে ২৫০ কেজি হিমসাগর এবং ৩০০ কেজি আম্রপালি রয়েছে। এসব আম প্রথমে নারায়ণগঞ্জে নেওয়া হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াজাতকরণের পর বিমানযোগে ফ্রান্সে পাঠানো হবে।
রপ্তানিকারক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সানা বলেন, বিদেশি বাজারের চাহিদা মাথায় রেখে শুরু থেকেই ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম উৎপাদন করা হয়েছে। তবে উচ্চ বিমান ভাড়া এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন জটিলতার কারণে এ বছর নির্ধারিত ২০০ টন আম রপ্তানির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে।
তিনি জানান, গত মৌসুমে কোনো আম বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি। যদিও তার আগের বছরগুলোতে ২০ টন ও ৩৬ টন করে আম রপ্তানি করা হয়েছিল। ফলে এবারের রপ্তানি শুরু হওয়াকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত মানসম্মত আম দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সুনাম অর্জন করেছে। চলতি মৌসুমে ফ্রান্সে প্রথম চালান পাঠানো স্থানীয় কৃষি ও অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
তবে রপ্তানিকারকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে পরিবহন ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি। তা না হলে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ আম বিদেশে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়বে।

মতামত দিন