ইসরায়েলের পাল্টা হামলার আশঙ্কা, তিন দেশের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ।
রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এমন এক বিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখান থেকে ফেরার পথ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। ইসরায়েলের উচ্চপর্যায়ের দুটি স্বতন্ত্র সূত্র সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে, পাল্টা হামলার প্রস্তুতি কেবল সময়ের অপেক্ষা।
ইরান রোববার গভীর রাতে তিন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে। তাদের দাবি, মার্কিন প্রযুক্তির সহায়তায় কমপক্ষে দশটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই নিষ্ক্রিয় করা গেছে এবং বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আইআরজিসি অবশ্য ভিন্ন কথা বলছে — তাদের মতে হামলা ছিল নিখুঁত এবং লক্ষ্যভেদী; হাইফা থেকে মাত্র বিশ কিলোমিটার দূরের ওই ঘাঁটি থেকেই লেবানন ও বৈরুতে বিমান হামলা পরিচালিত হতো।
এই উত্তেজনার মধ্যেই আঞ্চলিক আকাশপথে নেমে এসেছে অচলাবস্থা। ইরান পশ্চিমাঞ্চলের সমস্ত বেসামরিক ও আন্তর্জাতিক উড়ান অনির্দিষ্টকালের জন্য বাতিল করেছে। ইরাক ও সিরিয়াও নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানে হামলার সময় সাধারণত এই দুই দেশের আকাশপথ ব্যবহার করে থাকে — ফলে এই সিদ্ধান্ত কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
আইআরজিসি স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, রোববারের অভিযান ছিল কেবল একটি প্রাথমিক বার্তা। নতুন কোনো আগ্রাসন হলে জবাব হবে বহুগুণ বড়। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির শর্ত ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে একযোগে সংঘাত বন্ধ — কিন্তু লেবাননে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখে মার্কিন-ইসরায়েল জোটই আগে সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙেছে।
মতামত দিন