আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম।
আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও চাঙ্গা হয়েছে স্বর্ণের দাম। মার্কিন ডলারের মূল্য কিছুটা কমে আসা এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর নিম্নমুখী থাকায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দুপুরে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৬৫ ডলার ৫৬ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচারস বাজারে আগস্ট ডেলিভারির স্বর্ণের মূল্য ওঠে ৪ হাজার ৪৯৩ ডলার ৩০ সেন্টে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের দর কমে গেলে অন্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা সহজ হয়। ফলে চাহিদা বাড়ে এবং তার প্রভাব পড়ে দামে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের দামের গতিপথ অনেকাংশে তেল ও ডলারের বাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ দুই খাতে চাপ কমলেই স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়ছে।
অন্যদিকে স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসনের মূল্যায়ন, বাজারে সাময়িক ওঠানামা থাকলেও স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বমুখী ধারা এখনও অক্ষুণ্ন রয়েছে। তার মতে, বছরের শেষ দিকে দাম আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে।
শুধু স্বর্ণ নয়, মূল্যবান অন্যান্য ধাতুর বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও দিনের লেনদেনে বেড়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা ও মুদ্রাবাজারের পরিবর্তনের ওপর আগামী দিনের দামের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।
মতামত দিন