পরকীয়ার সম্পর্ক দেখে ফেলায় দেবরকে হত্যা, ভাবি ও প্রেমিক গ্রেপ্তার।
বগুড়ার শিবগঞ্জে ধানখেত থেকে উদ্ধার হওয়া রাজমিস্ত্রি শাহ আলম হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও গোপন সম্পর্কের বিষয় সামনে এনেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শেষে নিহতের ভাবি ও তার কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন উপজেলার সংসারদিঘি গ্রামের আরিফা বেগম ও একই এলাকার শাহিন শেখ ওরফে সায়েম। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
গত ১৬ মে সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের ধানখেতে শাহ আলমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু হয়। এ ঘটনায় নিহতের মামা হারুন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, শাহ আলমের বড় ভাই আবু বক্কর দীর্ঘসময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। সেই সুযোগে তার স্ত্রী আরিফার সঙ্গে প্রতিবেশী শাহিনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। বিষয়টি জানার পর থেকেই তাদের চলাফেরায় আপত্তি তুলছিলেন শাহ আলম।
পুলিশের দাবি, ঘটনার রাতে গোপনে আরিফার সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে যান শাহিন। বিষয়টি বুঝতে পেরে শাহ আলম হাতে হাসুয়া নিয়ে বের হন। পরে শাহিন পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করেন তিনি।
একপর্যায়ে ধানখেতের মধ্যে ধস্তাধস্তির সময় শাহ আলম মাটিতে পড়ে যান। তখন তার হাতের হাসুয়া নিয়েই মাথায় আঘাত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহিনুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা স্বাভাবিকভাবে এলাকায় অবস্থান করছিলেন। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত করা হয়।
তিনি আরও জানান, আদালতে নেওয়ার পর দুজনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মতামত দিন