বিশ্ববাজারে টানা পতনে দাম কমল স্বর্ণের।
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম আবারও কমেছে। টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো এই ধাতু নিম্নমুখী থাকায় বৈশ্বিক বিনিয়োগ বাজারে চাপ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
সাম্প্রতিক লেনদেনে দেখা গেছে, স্বর্ণের স্পট মূল্য কমে আউন্সপ্রতি প্রায় ৪,৫১৫ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। দিনের শুরুতে পতন বেশি হলেও পরবর্তীতে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়। পুরো সপ্তাহে মোট দরপতন দাঁড়িয়েছে সামান্য হলেও নেতিবাচক পর্যায়ে।
ফিউচার মার্কেটেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। জুন ডেলিভারির স্বর্ণের দামও কমে আউন্সপ্রতি ৪,৫২০ ডলারের ঘরে অবস্থান করছে।
বিশ্ব অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতির চাপ নতুন করে তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আবার সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি ঘিরে অনিশ্চয়তা জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করছে। এতে তেলের দাম বাড়লেও স্বর্ণবাজারে উল্টো চাপ তৈরি হচ্ছে।
সাধারণভাবে জ্বালানির দাম বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখে বা বাড়ায়। এতে সুদ না পাওয়া যায় এমন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।
ফেডারেল রিজার্ভকে ঘিরে বাজার পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, বছরের শেষ দিকে সুদের হার কিছুটা বাড়তে পারে—এমন সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীরা এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে। জ্বালানি খরচ বাড়ায় সাধারণ মানুষের ব্যয়ও বেড়েছে।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। রূপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমে গিয়ে পুরো সপ্তাহটি ধাতু বাজারের জন্য নেতিবাচকভাবে শেষ হয়েছে।
দেশীয় বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। নতুন দরে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকার কাছাকাছি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য ক্যারেটের দামেও একইভাবে পরিবর্তন এসেছে।

মতামত দিন