চিৎকার শুনেছিলাম, বুঝতে পারিনি সেটি ছিল আমার মেয়ের: রামিসার মা।
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতির মাঝেই ঘটে যাওয়া এই ঘটনা এখনো হতবাক করে রেখেছে পরিবারকে।
শিশুটির মা পারভীন জানান, সকালে স্বাভাবিকভাবেই মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পোশাক পরিবর্তন ও দাঁত ব্রাশ করার জন্য রামিসা ঘরের ভেতরে যায়। এরপরই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
তিনি বলেন, হঠাৎ করেই দরজার কাছ থেকে শিশুটিকে টেনে নেওয়ার মতো শব্দ পান। কিছুক্ষণ পর একটি চিৎকার শুনলেও তখন বুঝতে পারেননি সেটি মেয়ের ছিল। পরে বিষয়টি উপলব্ধি করেন।
মায়ের দাবি, ঘটনার সময় বাড়িতে অন্য সন্তানও ছিল এবং তারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছিল। বড় বোন বাইরে যাওয়ার সময় রামিসা তার সঙ্গে যেতে চাইলেও তাকে ঘরে থাকতে বলা হয়।
ঘটনার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাসায় গেলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।
প্রথমে একজন নারীকে আটক করার পর পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তে তিনি আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চলছে। দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
মতামত দিন