আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে ২৬টি জাহাজ পার হয়েছে বলে জানাল আইআরজিসি।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিনেই ২৬টি জাহাজ নিরাপদে চলাচল করেছে। তাদের ভাষায়, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে এখন চলাচল তাদের তত্ত্বাবধান ও অনুমতির ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই রুটে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচল ফেরানোর আলোচনা এখনো কোনো সমাধানে পৌঁছায়নি।

আইআরজিসির বক্তব্য উদ্ধৃত করে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রণালির ভেতর জাহাজ চলাচল এখন নির্দিষ্ট সমন্বয় কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি নিয়ন্ত্রিত জলসীমা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্ধারিত এলাকার ভেতর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। এই অঞ্চল ইরানের কুহ-ই মোবারক এলাকা থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ পর্যন্ত বিস্তৃত, এবং পশ্চিমাংশে কেশম দ্বীপ থেকে উম্ম আল-কুয়াইন পর্যন্ত অংশও এর অন্তর্ভুক্ত।

এর আগে ২০২৫ সালের শুরুতে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের বড় অংশ এই পথ ব্যবহার করলেও পরিস্থিতি পরিবর্তনের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের কিছু বন্দর লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনাও ঘটে, যার প্রভাব তেল রপ্তানিতে পড়ে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সতর্ক করেছে, এই ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আগামী মাসগুলোতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও পণ্যের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে যেতে পারে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, চাপ দিয়ে ইরানকে সিদ্ধান্তে বাধ্য করা সম্ভব নয়, প্রয়োজনে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

মতামত দিন