আবারও ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বিদ্যুতের দাম।
দেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের দাবি, বর্তমান ব্যয় সামাল দিতে আবাসিকসহ বিভিন্ন খাতে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের মূল্য ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত সমন্বয় করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের গণশুনানির দ্বিতীয় দিনে ছয়টি বিতরণ কোম্পানি যৌথভাবে এই প্রস্তাব তোলে। একই সঙ্গে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পেলে সেই অতিরিক্ত ব্যয়ও গ্রাহকদের ওপর সমন্বয় করার আবেদন জানানো হয়।
শুনানিতে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধাপ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবও আসে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এটি কার্যকর হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপের মুখে পড়বে।
এছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের জন্য চালু থাকা বিশেষ সুবিধা বাতিল করে তাদের বাণিজ্যিক শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছে কয়েকটি কোম্পানি। এতে শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গণশুনানির প্রথম দিনে বিদ্যুতের সঞ্চালন ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জানায়, বড় অঙ্কের আর্থিক ঘাটতির কারণে খাতটি চাপে রয়েছে।
তবে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী সংগঠন ও ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, খাতের দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও অপচয়ের দায় জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে।
তারা বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। এজন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বদলে ব্যয় কমানো ও খাত সংস্কারের দিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

মতামত দিন