ডিএনএ টেস্টে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া সেই ইমাম এখন মানসিক হাসপাতালে।
নির্দোষ প্রমাণিত হয়েও জীবন আর আগের জায়গায় ফেরেনি ফেনীর ইমাম মাওলানা মুজাফফর আহমদ জুবায়েরের। মিথ্যা ধর্ষণ মামলা, কারাভোগ, সামাজিক বয়কট আর আর্থিক ধ্বংসের ধাক্কা সামলাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে এনসিপি নেতা তারেক রেজার ভাইয়ের বাসায় হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন জুবায়ের। আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের ওপর চড়াও হওয়ার একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাটের মালিককেও আঘাত করার চেষ্টা করেন। ৯৯৯-এ খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর শুক্রবার সকালে পরিবার পৌঁছালে তাকে আদাবরের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল আছেন।
জানা গেছে, কারাগারে থাকাকালীনও তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনার পেছনের গল্পটা দীর্ঘ। ২০১৯ সালে ফেনীর পরশুরামে এক মক্তবছাত্রীর গর্ভধারণের ঘটনায় ২০২৪ সালে জুবায়েরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ৩২ দিন কারাভোগের পর ছাড়া পান, কিন্তু সমাজ তাকে আর গ্রহণ করেনি। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে আসে, ওই কিশোরীর সন্তানের বাবা আসলে তার নিজেরই ভাই। ২০২৫ সালের মে মাসে সেই ভাই আদালতে স্বীকারোক্তিও দেন। কিন্তু ততদিনে জুবায়েরের সংসার ভেঙে গেছে, চাকরি গেছে, পৈতৃক জমি বিক্রি করতে হয়েছে মামলার খরচ মেটাতে।
অসুস্থ হওয়ার কয়েকদিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। চাকরিতে পুনর্বহাল, ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাইদুল আশরাফ কুশল তাকে আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মতামত দিন