হরমুজ উত্তেজনায় তেলের বাজারে ফের ঊর্ধ্বগতি।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবার চড়েছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৫০ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়ে ৯৯ দশমিক ৮০ ডলারে উঠেছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হলো, যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে ইরানের জবাবকে 'সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ইরানের প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া তিনি পড়েছেন এবং তা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান তাদের অবস্থান ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শর্তের মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল পুনরুদ্ধার এবং ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করা। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত সরানো না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধের সমাপ্তি সম্ভব নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই পথে যায়। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজে আক্রমণের হুমকি দিয়েছে তেহরান। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরেই রয়ে গেছে। পরে ২১ এপ্রিল ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফা ফুলেফেঁপে উঠেছে। আরামকো জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে তাদের রাজস্ব আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিপির মুনাফা একই সময়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে, আর শেলের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মতামত দিন