অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

জনতা ব্যাংকের ৩ কোটি টাকার বেশি আত্মসাত মামলা:২৬ বছর পর পাঁচ ব্যাংক কর্মকর্তার কারাদণ্ড।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের একটি বিশেষ আদালত দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার আত্মসাত মামলায় পাঁচ সাবেক কর্মকর্তাকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। বহু বছর ঝুলে থাকা এই মামলার রায় রোববার (১০ মে) ঘোষণা করা হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রায় দেন যে, অভিযুক্ত প্রত্যেক সাবেক কর্মকর্তা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতে জড়িত ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের শুরু থেকে ২০০০ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামের শেখ মুজিব রোডে অবস্থিত জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখায় এই আর্থিক অনিয়ম ঘটে। তখন ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন হিসাব ব্যবহার করে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সেই অর্থ একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।

পরবর্তীতে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পরিদর্শনে প্রায় ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০০০ সালে মামলা দায়ের করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১১ সালে চার্জশিট দাখিল করা হয় এবং ২০১৩ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি চলতে থাকে দীর্ঘ সময় ধরে।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত পাঁচজন সাবেক কর্মকর্তাকে দণ্ড দিয়েছেন। তারা হলেন— মো. আবু তৈয়ব, বাবুল চন্দ্র মজুমদার, রনেন্দ্র বিকাশ সাহা, মোসলেম উদ্দিন এবং মো. সাঈদ হোসেন।

রায়ে বলা হয়েছে, দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় ৫ বছর, ৪২০ ধারায় ২ বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের একটি ধারায় আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৪৬ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

অন্যদিকে, একই মামলায় নুরুল হুদা নামে একজন সাবেক কর্মকর্তা অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন। আর আবু বকর সিদ্দিকী নামে আরেকজনের বিষয়ে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি তদন্ত থেকে শুরু করে রায় পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রায় ২৬ বছর সময় লেগেছে। দীর্ঘ এই বিচার শেষে অবশেষে আলোচিত আত্মসাত মামলার নিষ্পত্তি হলো।

মতামত দিন