আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১০০ প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদ মিলিয়ে মোট ১০০ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা উপস্থাপন করা হয়। ঘোষণায় জানানো হয়, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৫০ জন এবং পৌরসভার মেয়র পদে আরও ৫০ জনকে প্রার্থী হিসেবে রাখা হয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও প্রার্থীদের পারফরম্যান্স বিবেচনায় তালিকায় পরিবর্তন আনার বিষয়টিও খোলা রাখা হয়েছে।
এ সময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় না পাওয়ায় সাংগঠনিকভাবে প্রতিটি আসনের ওয়ার্ড পর্যায়ে কাঠামো এখনো পুরোপুরি শক্তিশালী হয়নি। তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়টি থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল এককভাবে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের প্রক্রিয়াকে সময়সাপেক্ষ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সারজিস আলম আরও জানান, যদি কোনো ব্যক্তি দুর্নীতি বা ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত না থাকেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা থাকে, তবে অন্য দল থেকেও কেউ এনসিপির হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়র পদে প্রার্থী হতে আবেদন করতে পারবেন।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘোষিত প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত নয়। মাঠ পর্যায়ে কাজের অগ্রগতি ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় ভবিষ্যতে তালিকায় পরিবর্তন আনা হতে পারে এবং প্রয়োজন হলে নতুন প্রার্থী যুক্ত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, প্রার্থীরা এখন থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করবেন। তিনি আরও জানান, নির্বাচন নিয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা না থাকায় তারা একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছেন।
এ সময় তিনি সরকারের পররাষ্ট্র নীতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তার দাবি, বর্তমান সরকার কূটনৈতিক ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর ফলে কিছু বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
মতামত দিন