তেলের বাজারে অস্থিরতা, হরমুজ সংকটে বেড়েছে তেলের দাম।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বিশ্ববাজারে সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারের ওপরে উঠে যায়। যদিও মঙ্গলবার সকালে কিছুটা কমে ১১৩ ডলারের ঘরে নেমেছে, তবুও বাজারে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েন। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা ইরানের ছয়টি নৌযান ধ্বংস করেছে। তবে তেহরান এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে এবং একে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।
একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়েছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল উদ্বেগ এখন হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক জ্বালানি বিশ্লেষক জুন গোহ মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেল স্থাপনাগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা এবং প্রণালির অনিশ্চয়তা—এই দুই কারণেই দাম বাড়ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সতর্ক করে জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে নাবিকদের এই পথে চলাচলে বাধ্য করা ঝুঁকিপূর্ণ।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার জাহাজে থাকা ২০ হাজারের বেশি নাবিক আটকা পড়েছেন—যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে বড় ধরনের নজির।
বিশ্ব সংস্থাটি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছে এবং সতর্ক করেছে, এই সংকট দীর্ঘ হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর গুরুতর প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে দৈনিক বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বাজারে চাপ আরও বেড়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মতামত দিন