কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

হাওরের ফসল ডুবেছে পানিতে ,ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১৩ কোটি টাকা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

নেত্রকোনার হাওড়াঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ভয়াবহ ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান, আর এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলার কৃষকরা।

সরকারি প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলার ১০টি উপজেলায় অন্তত ২২ হাজার ৩৪৮ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ৬৯ হাজার ৬৯৮ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১৩ কোটি টাকা।

তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতি সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়েও অনেক বেশি।

এ বছর নেত্রকোনায় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল, যার উৎপাদন লক্ষ্য ছিল ১৩ লাখ টনের বেশি। এর বড় একটি অংশ হাওড়াঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল।

হাওরে প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে ধান চাষ হয়, যার মধ্যে সরকারি হিসেবে ৬২ শতাংশ ধান কাটা শেষ হলেও বাকি অংশ এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক জমি পানিতে ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা ফসল তুলতে পারেননি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, প্রায় ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৩৮ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধের ওপর নির্ভর করে বিপুল পরিমাণ জমির ধান রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এই ধান থেকেই এলাকার বড় একটি অংশের জীবিকা নির্ভরশীল।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো ধান কাটতে না পারা, ডিজেল সংকট, কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করতে সমস্যা এবং শ্রমিক সংকট—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা, ভরাট খাল-বিল এবং অকেজো স্লুইসগেটও পরিস্থিতি খারাপ করেছে বলে দাবি করছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কংস ও উব্দাখালী নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ধনু নদীর পানি কিছুটা নিচে থাকলেও পুরো পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ।

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহায়তা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। না হলে আগামী মৌসুমে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মতামত দিন