কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

বাঁধ ভেঙে হাওরে বন্যা, চোখের সামনে ডুবল কৃষকের স্বপ্ন।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

শনিবার (০২ মে) ভোরের আলো ফোটার আগেই সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বোয়ালা হাওরে নামে বিপদ। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সোমেশ্বরী নদীর পানি হু হু করে বাড়তে থাকে।

একসময় মধ্যনগর জামে মসজিদের পাশের কালভার্ট সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ আর টিকতে পারেনি — ভেঙে পড়ে প্রবল স্রোতে। মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত।

সকালে শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে আসা কৃষকরা মাঠে পৌঁছে হতবাক হয়ে যান। চোখের সামনে ডুবে যাচ্ছে পাকা ধান, অথচ কিছুই করার নেই। কৃষক মানিক মিয়া ও সৈকত মিয়াসহ অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের সামনে তখন একটাই প্রশ্ন — ডুবন্ত ধান কাটবেন, নাকি বাঁধ বাঁচানোর চেষ্টা করবেন। তীব্র স্রোতের কাছে শেষ পর্যন্ত দুটোই হলো না।

প্রশাসনের হিসাবে এই হাওরের ৫৭৪ হেক্টর বোরো জমির মধ্যে ৪৬০ হেক্টরের ধান আগেই ঘরে উঠেছিল, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮৪ হেক্টর। তবে কৃষকদের দাবি ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি — প্রায় ২০০ হেক্টর। কৃষকদের অভিযোগ, কালভার্টের মুখে আড়-প্যালাসেটিংসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা না থাকায় বাঁধটি আগে থেকেই দুর্বল ছিল। নিম্নমানের কাজই এই বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

মধ্যনগরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্চয় ঘোষ জানান, হঠাৎ নদীর পানি বাড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার দাবি করেন, অধিকাংশ ধান কাটা শেষ হয়ে যাওয়ার পরই বাঁধ ভেঙেছে, তাই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদিও মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।

মতামত দিন