হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা,হরমুজে ২০০০ জাহাজসহ ২০ হাজার নাবিক আটক।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট নতুন করে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে চাপে ফেলছে। চলমান উত্তেজনার কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক বাজারে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগর এলাকায় প্রায় দুই হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজারের বেশি নাবিক কার্যত আটকা অবস্থায় রয়েছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় তারা প্রণালি পার হওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় থাকলেও বাস্তবে যাত্রা শুরু করতে পারছেন না।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে মার্চ মাসে, যখন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বীমা সংস্থাগুলো এই রুটকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে। এর ফলে তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য যুদ্ধঝুঁকি বীমা বাতিল করা হয়। বীমা না থাকায় অনেক জাহাজ প্রস্তুত থাকলেও সেগুলো চলাচল করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, সমুদ্রপথে পাতা নৌ-মাইন সরাতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এর আগে পুরোপুরি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, মাইন অপসারণের পরও বীমা ব্যয় দীর্ঘ সময় বেশি থাকতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশের বেশি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
এদিকে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখছে ইরান। সম্প্রতি দেশটির একটি কন্টেইনার জাহাজ থেকে ছয় নাবিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
এর আগে ওমান উপসাগরে জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হলে এতে থাকা ২৮ জন ইরানি নাবিকের বিষয়টি সামনে আসে। ইরান এই ঘটনাকে ‘সমুদ্র দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দেয়।
বর্তমানে মুক্তি পাওয়া ছয়জন দেশে ফিরলেও বাকি ২২ জন এখনও যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন। তাদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
সূত্র: আলজাজিরা
মতামত দিন