অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

তনু হত্যা মামলায় অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য কারাগারে,জাহিদ ও শাহীনকে খুঁজছে পুলিশ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন পর নতুন অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় আটক সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আমান এ আদেশ দেন। এর আগে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত সংস্থা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, রিমান্ড শেষে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে আরও দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে ডিএনএ মিলিয়ে দেখার কাজও চলছে।

মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি অতীতে তনুর সঙ্গে পরিচিত ছিলেন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তাকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন। এ কারণে তার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় সন্দেহভাজন আরও দুই সাবেক সেনা সদস্য—জাহিদ ও শাহীন আলম—এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছে তদন্তকারীরা। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তাদের একজন দেশের বাইরে থাকতে পারেন।

তনুর পরিবার শুরু থেকেই কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সন্দেহ করে আসছিল। তবে দীর্ঘ সময়েও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা তৈরি হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাইমুল হক বলেন, শুরুতেই যথাযথ তদন্ত হলে মামলাটি এতদিন ঝুলে থাকত না। এখন আইনি প্রক্রিয়া সঠিকভাবে এগোবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার পর সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর তার বাবা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে একাধিক ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা যায়নি, যা মামলাটিকে আরও জটিল করে তোলে।

মতামত দিন