কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

দাম পড়ে যাওয়ায় হতাশ কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো চাষিরা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

হাওরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন বোরো ধান কাটার ব্যস্ততা। কিশোরগঞ্জের কৃষকেরা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত একটানা কাজ করছেন—ধান কেটে আনা, মাড়াই করা আর ঘরে মজুত করা চলছে সমানতালে।

চারদিকে নতুন ধানের গন্ধ থাকলেও কৃষকের মনে আনন্দের চেয়ে চাপই বেশি।

এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ধানের ফলন অনেক জায়গায় ভালো হয়েছে। কোথাও কোথাও উৎপাদন গত বছরের তুলনায় বেশি হলেও বাজার পরিস্থিতি সেই সুখবরকে ম্লান করে দিচ্ছে।

স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে। কিন্তু কৃষকদের হিসাব বলছে, এক মণ ধান উৎপাদনে তাদের খরচ পড়ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে বিক্রি করলেই লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।

অনেক কৃষক জানান, ঋণ ও আর্থিক চাপের কারণে তারা ধান ধরে রাখতে পারছেন না। দ্রুত বিক্রি করতে গিয়ে কম দামে ফসল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এদিকে স্থানীয় ফড়িয়া ও দাদন ব্যবসায়ীদের প্রভাবেও ন্যায্য দাম পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

সরকারি ধান সংগ্রহের ঘোষণা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রভাব খুব একটা নেই বলে অভিযোগ কৃষকদের। তাদের দাবি, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম আরও সক্রিয় না হলে এই লোকসান কাটানো সম্ভব নয়।

অন্যদিকে কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে।

তবে কৃষকেরা বলছেন, উৎপাদন যতই ভালো হোক, বিক্রির সময় ন্যায্য দাম না পেলে সেই সাফল্যের কোনো মূল্য থাকে না।

মতামত দিন