আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ল অপরিশোধিত তেলের।
সরবরাহ অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহের শেষে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সার্বিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হলেও পুরো সময়জুড়ে ছিল ওঠানামার প্রবণতা।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুক্রবারের লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুড সামান্য বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৫.৩৩ ডলারে স্থির হয়। তবে একই সময়ে ডব্লিউটিআই তেলের দাম কমে ৯৪.৪০ ডলারে নেমে আসে।
দিনের শুরুতে উভয় তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও পরবর্তী সময়ে বাজারে কিছুটা সংশোধন দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সম্ভাবনার খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের প্রতিনিধিরা বর্তমানে ইসলামাবাদে কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত আছেন। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তেহরানের পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাব পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ এখনো কাটেনি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন পথটি কার্যত চাপের মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে একাধিক জাহাজ জব্দের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মাসে আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের প্রভাব বৈশ্বিক করপোরেট খাতে পড়তে শুরু করেছে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল (পিঅ্যান্ডজি) জানিয়েছে, বাড়তি জ্বালানি খরচের কারণে আগামী অর্থবছরে তাদের মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
মতামত দিন