তীব্র দাবদাহে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র, দেশজুড়ে বাড়ছে লোডশেডিং।
দেশজুড়ে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ থাকছে না, ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে ভোগান্তি।
সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী ও ছোট ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুতের অনিশ্চয়তায় পড়াশোনা ও ব্যবসা—দুটোই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতির পেছনে রয়েছে জ্বালানি সংকট ও কারিগরি সমস্যা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতায় জ্বালানি আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ত্রুটির কারণে বন্ধ বা আংশিক চালু রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে, যা ঢাকার বাইরে আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে চাহিদা সামাল দিতে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হারে লোডশেডিং করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির তথ্য বলছে, উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে ফারাক বেড়ে গেছে। গত বুধবার দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৬৪৭ মেগাওয়াটে, বিপরীতে উৎপাদন হয় মাত্র ১৪ হাজার ৪৬৭ মেগাওয়াট। এর ফলে ওই দিনসহ পরের দিনও দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ কমাতে হয়েছে।
অঞ্চলভেদে চিত্রও উদ্বেগজনক। ঢাকায় ৬ হাজারের বেশি মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে কয়েকশ মেগাওয়াট ঘাটতি রাখা হয়েছে। খুলনায় প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে কয়েকশ মেগাওয়াট কম সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ অন্যান্য জোনেও একই চিত্র—চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমিয়ে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে।
কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল ও রংপুর—প্রতিটি অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ঘাটতি রেখে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে চাহিদা আরও বাড়বে, যা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ত্রুটি দ্রুত সমাধান না হলে এই সংকট সহজে কাটবে না।

মতামত দিন