জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতেই মিলছে ম্যালেরিয়ার বাহক মশা, বাড়ছে নতুন শঙ্কা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দেশজুড়ে ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা সামনে থাকলেও বাস্তব চিত্র উল্টো দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় এই রোগের বাহক মশার উপস্থিতি ধরা পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্ক হচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই দেশে ৪৬০ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও এ রোগ সাধারণত পার্বত্য এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকে, সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে—ঢাকাতেও ‘অ্যানোফেলিস’ মশার বিস্তার ঘটছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এপ্রিলের শুরুতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কয়েকটি জোনে এই মশার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে শতাধিক থেকে বেড়ে তা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।

গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, ঢাকায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৯ প্রজাতির অ্যানোফেলিস মশা পাওয়া গেছে। তার মতে, বাহক মশার ঘনত্ব বাড়তে থাকলে রাজধানীতে ম্যালেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়বে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে ১০ হাজারের বেশি মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন এবং ১৬ জন মারা যান। চলতি বছরের আক্রান্তদের বেশিরভাগই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা হলেও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশেষ করে এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তিনি দেশে নাকি বিদেশে সংক্রমিত হয়েছেন, তা স্পষ্ট না হলেও ঢাকায় মশার উপস্থিতি আতঙ্ক বাড়িয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, মারাত্মক ধরনের ম্যালেরিয়া খুব দ্রুত শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল করে দিতে পারে। মস্তিষ্ক আক্রান্ত হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো—এই রোগের ওষুধ সাধারণ ফার্মেসিতে পাওয়া যায় না। সরকারি ব্যবস্থাপনার ওপরই নির্ভর করতে হয় রোগীদের।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে সংক্রমণ আসা এবং রাজধানীতে বাহক মশার বিস্তার—দুটো বিষয়ই এখন গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজন হলে প্রতিরোধ কৌশল নতুনভাবে সাজাতে হবে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম মজুত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা—ডেঙ্গুর মতো ম্যালেরিয়াও যেন শহুরে সমস্যায় পরিণত না হয়, সে জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

মতামত দিন