ব্যবসায়-বাণিজ্য
ছবি: সংগৃহীত

কাগজশিল্প সংকটে বন্ধ ৮০ মিল, টিকিয়ে রাখতে শুল্ক কমানোসহ ১৭ দাবি।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দেশের কাগজশিল্প বর্তমানে বহুমুখী সংকটে পড়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি ঘাটতির কারণে একের পর এক মিল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে ৮০টি কারখানা কার্যক্রম গুটিয়েছে, আর ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ২৬টি।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের কাছে নীতিগত সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটি তাদের প্রস্তাব তুলে ধরে।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে বক্তব্য দেন ব্যবসা উন্নয়ন ও রপ্তানি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

সংগঠনটি মোট ১৭টি প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে মূলত কাঁচামাল আমদানিতে কর-শুল্ক কমানো, কিছু পণ্যে ভ্যাট নির্ধারণ, নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ আমদানিতে অগ্রিম কর ছাড় এবং কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্প সংশ্লিষ্ট উপকরণ আমদানিতে শর্ত সহজ করার দাবি জানানো হয়।

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কাগজশিল্প শুধু উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি শিক্ষা, প্রকাশনা ও প্যাকেজিং খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। দেশের কারখানাগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন। এর একটি বড় অংশ দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ৪০টির বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

তার মতে, এই খাতে প্রায় ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং বিনিয়োগের পরিমাণও বিশাল। পাশাপাশি ৩০০টির বেশি সহায়ক শিল্প এই খাতকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। তবে ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও নীতিগত জটিলতার কারণে শিল্পটি টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, যদি দ্রুত কর কাঠামো সহজ করা, সাশ্রয়ী ঋণের ব্যবস্থা, এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়—তাহলে কাগজশিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। অন্যথায় আরও মিল বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

মতামত দিন