ট্রাম্প-পুতিন-নেতানিয়াহুকে ‘ভয়ংকর শিকারি’ আখ্যা অ্যামনেস্টির।
বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে সরাসরি দায়ী করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলছে, ক্ষমতা ও আধিপত্যের রাজনীতিই বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।
লন্ডনে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সংস্থাটির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ‘ভয়ংকর শিকারি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার ভাষায়, এই নেতারা নিজেদের স্বার্থে বৈশ্বিক মানবাধিকার কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছেন। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই তারা বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রতিবেদনে তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা ৭২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। একই সময় লেবাননে হামলায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মারা গেছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ। অন্যদিকে, চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
ক্যালামার্ড বলেন, বিশ্ব এখন এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে, যেখানে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো নিজেদের স্বার্থে অন্য দেশের সম্পদ ও অধিকারকে উপেক্ষা করছে। তার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাও ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক দেশ এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে বরং নীরব সমর্থন দিচ্ছে। এমনকি কিছু সরকার একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে ইউরোপের মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে স্পেনের ভূমিকার প্রশংসা করেছে সংস্থাটি। গাজা ও ইরান ইস্যুতে দেশটির অবস্থানকে তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট ও সমালোচনামূলক বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনটি প্রায় চারশো পৃষ্ঠার, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে শুরু করে আফ্রিকার কয়েকটি দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত এই তালিকায় দেখা গেছে, বহু জায়গায় দমন-পীড়ন বেড়েছে।
সংস্থাটির মতে, চলমান যুদ্ধ ও সহিংসতা এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে প্রাণহানির ঘটনাগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া হচ্ছে—যা বৈশ্বিক মানবাধিকার ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের হুমকি।
মতামত দিন