অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি বাড়লেও কমেনি চাপ, তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, শেয়ারবাজারে অস্থিরতা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা এলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তার প্রত্যাশিত ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। বরং জ্বালানি ও শেয়ারবাজার—দুই ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) শেষ হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির সময়সীমা। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেন, যাতে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু এই পদক্ষেপ বাজারকে আশ্বস্ত করতে পারেনি।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে দিনের শুরুটা ইতিবাচক থাকলেও শেষ পর্যন্ত সূচকগুলো নেতিবাচক অবস্থায় বন্ধ হয়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হারায়। একই প্রবণতা দেখা যায় ডো জোনসেও, যা ২৯৩ পয়েন্ট কমে দিন শেষ করে। প্রযুক্তিনির্ভর নাসদাক সূচকও একই হারে নিম্নমুখী হয়।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের পাকিস্তান সফর স্থগিত হওয়া এবং ইরান ইস্যুতে অনিশ্চিত পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক মনোভাব তৈরি করেছে।

জ্বালানি বাজারেও একই ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনের শুরুতে তুলনামূলক কম থাকলেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পরে দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তা ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। দিনশেষে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দাঁড়ায় ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলারে, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও বাস্তব পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সেই অনিশ্চয়তাই বাজারে চাপ তৈরি করছে এবং বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

যদিও বড় ধরনের ধস বা অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা যায়নি, তবুও বাজার এখনো স্থিতিশীল নয়—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মতামত দিন