অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বুধবারের লেনদেনে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, যার পেছনে জ্বালানি বাজারের সাম্প্রতিক পরিবর্তন বড় ভূমিকা রাখছে।

লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ০.৯ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪,৭৫৪ ডলারের ঘরে উঠে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে জুন ডেলিভারির স্বর্ণের দরও ১ শতাংশের বেশি বাড়ে।

একদিন আগেও পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম নেমে গিয়েছিল সাম্প্রতিক নিম্নস্তরে। তবে নতুন করে দামের এই ঘুরে দাঁড়ানো বাজারে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘিরে নতুন বার্তা বাজারে প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় সরাসরি প্রভাব পড়ে তেলের দামে। জ্বালানি খাতে চাপ কমায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

এই পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীরা আবার স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন। তবে বাজার এখনো অনিশ্চয়তামুক্ত নয়। বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেইর সতর্ক করে বলেন, যদি আবার সংঘাত শুরু হয়, তাহলে ডলার শক্তিশালী হবে এবং সুদের হার বাড়ার চাপ তৈরি হবে—যা স্বর্ণের জন্য নেতিবাচক হতে পারে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ধারা দেখা গেলেও ডলারের মান কিছুটা নরম হয়েছে। তেলের দাম কমায় উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও কমতে পারে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।

অন্যদিকে, বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, স্বর্ণের এই ঊর্ধ্বগতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। স্বল্পমেয়াদে দামের সংশোধন হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে আবারও উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। সম্ভাব্য প্রধান হিসেবে আলোচনায় থাকা কেভিন ওয়ারশ জানিয়েছেন, সুদের হার কমানোর বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি তিনি দেননি এবং নীতিনির্ধারণে স্বাধীনতা বজায় রাখবেন।

শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। রূপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও দিনভর লেনদেনে বাড়তির দিকেই ছিল, যা সামগ্রিকভাবে ধাতব বাজারে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মতামত দিন