জনবল সংকটে আটকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের বর্ধিত ইউনিট,প্রস্তুত থাকলেও মিলছে না পূর্ণ সেবা।
ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের অবকাঠামো ও চিকিৎসা সুবিধা প্রায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা চালু হয়নি জনবল সংকটের কারণে। বিশেষ করে ৫০০ শয্যার দ্বিতীয় ইউনিটটি গত চার মাস ধরে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন ইউনিট পুরোপুরি চালু করতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনবল প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি। এতে আধুনিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সেবা কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিও কমছে না। হার্টের সমস্যায় ভুগছেন নিরাপত্তাকর্মী লাল মিয়া। কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে এসে ভর্তি হতে না পেরে তাকে বারবার ফিরে যেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তাদেরকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে কোনো বেড খালি নেই।
এমন অভিজ্ঞতা শুধু লাল মিয়ার নয়। অনেক রোগীই অন্য হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে এসে এখানে ভর্তি হতে না পেরে আবার অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, পরীক্ষার পরও সিট না থাকায় তাদের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জরুরি বিভাগ ও করিডোরে স্ট্রেচারে অনেক রোগী ভর্তি অপেক্ষায় আছেন। স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালটির উন্নত চিকিৎসা সুবিধার কারণে রোগীর চাপ অনেক বেশি, কিন্তু সেই তুলনায় সেবার পরিধি সীমিত। প্রতিদিন কিছু বেড খালি হলেও চাহিদা তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এমআরআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষার জন্যও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
হাসপাতালের ভেতরে থাকা নতুন বর্ধিত ইউনিটে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, ক্যাথ ল্যাবসহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। সবকিছু প্রস্তুত থাকলেও জনবল না থাকায় এসব সুবিধা পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক কাজী দ্বীন আহমেদ বলেন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তির দিক থেকে এটি দেশের অন্যতম আধুনিক হাসপাতাল। তবে জনবল নিয়োগে প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও নীতিমালার পরিবর্তনের কারণে কিছুটা দেরি হচ্ছে।
গত বছরের ৮ ডিসেম্বর নতুন ইউনিট উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগ হয়নি। ৮৫২টি পদের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মী। পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কিছু জনবল নিয়োগ দেওয়া হলেও তা চাহিদার তুলনায় কম।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব জানান, ধাপে ধাপে জনবল নিয়োগের কাজ চলছে এবং আগামী ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সীমিত পরিসরে সেবা কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে প্রায় ৫০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের এই বর্ধিত ইউনিট নির্মাণ শুরু হয়। আধুনিক স্থাপত্য ও চিকিৎসা প্রযুক্তি সমৃদ্ধ এই প্রকল্প সম্পন্ন হলেও জনবল পরিকল্পনা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এর পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।

মতামত দিন