আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

হুমকি ও চাপের পরিবেশে কোনো ধরনের আলোচনা নয়: গালিবাফ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হুমকি বা চাপের পরিবেশে কোনো ধরনের আলোচনা তারা গ্রহণ করবে না। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার বাকের গালিবাফ সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, অবরোধ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার প্রক্রিয়াকে চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা করছেন। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আলোচনাকে সমঝোতার জায়গা থেকে সরিয়ে “আত্মসমর্পণের টেবিল”-এ পরিণত করার কৌশল।

গালিবাফ আরও বলেন, ইরান কখনোই হুমকির মধ্যে বসে আলোচনা করবে না—এটাই তাদের নীতিগত অবস্থান।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ জব্দ হওয়ার ঘটনায়। এ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন নিয়ে পারস্পরিক অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।

কূটনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ আরও বাড়িয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা আগামী বৃহস্পতিবার হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তৎপরতা চলছে।

এদিকে ইরান ইস্যুতে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা ঘিরে কূটনৈতিক মহলে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন বলে জানা গেছে। তার সফরসঙ্গী হিসেবে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদলও থাকতে পারে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক আগামী বুধবার ইসলামাবাদে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দুই পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে এই আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি। তবে প্রস্তুতি চলছে এবং শিগগিরই মার্কিন প্রতিনিধিদল যাত্রা শুরু করতে পারে।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হবে। এ সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না—সে বিষয়ে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্ভাবনা খুবই কম।

মতামত দিন