নওগাঁ ও টেকনাফে পৃথক নৃশংস ঘটনায় ৭ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক।
দেশের নওগাঁ ও কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক দুই নৃশংস ঘটনায় শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। দুই জায়গায় ঘটে যাওয়া এ হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে সোমবার গভীর রাতে এক পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন গরু ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান, তার স্ত্রী পপি খাতুন এবং তাদের দুই সন্তান পারভেজ ও সাদিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাবিবুর রহমান সন্ধ্যায় গরু বিক্রি করে প্রায় তিন লাখ টাকার কাছাকাছি অর্থ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই টাকাই লুটের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা রাতের অন্ধকারে ঘরে প্রবেশ করে।
পরিবারের সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘরের ভেতরেই লাশ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে প্রতিবেশীরা রক্তের দাগ দেখে বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে ডাকাতি-জনিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে কারা জড়িত তা শনাক্তে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, একই সময় কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের একটি পাহাড়ি এলাকায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সক্রিয় রয়েছে। নিহতদের নিয়েও এমন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়, তবে পুলিশ বিষয়টি যাচাই করছে।
পুলিশ বলছে, পাহাড়ি এলাকায় আধিপত্য ও অপরাধচক্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
দুই জেলার পৃথক এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

মতামত দিন