আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

চীনা প্রযুক্তিতে বাড়ছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উন্নত স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে দেশটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুলভাবে হামলা পরিচালনা করতে পারছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ইকোনোমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তৈরি উন্নত নজরদারি উপগ্রহ ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে তেহরান। এই উপগ্রহ অত্যন্ত সূক্ষ্ম মানের ছবি সরবরাহ করতে পারে, যা ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সুবিধা পাওয়ার ফলে ইরান এখন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ওপর আরও নির্ভুল নজরদারি চালাতে পারছে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ আগের চেয়ে অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট হয়ে উঠেছে।

এ ছাড়া উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থার সহায়তায় হামলার আগে লক্ষ্য চিহ্নিত করা এবং হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সামগ্রিকভাবে তাদের সামরিক কার্যক্রম আরও সংগঠিত ও কার্যকর হয়েছে।

তবে চীন এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, তারা কোনো সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না এবং এ ধরনের প্রতিবেদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানকে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়েও প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার—এই কৌশল এখন নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। এতে শুধু ইরানের অবস্থানই শক্তিশালী হচ্ছে না, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণেও পরিবর্তন আসছে।

মতামত দিন