তিতাসে নতুন গভীর কূপ খনন শুরু, গ্যাস উৎপাদন বাড়ার আশা।
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে আরেকটি গভীর অনুসন্ধান কূপের কাজ শুরু হয়েছে। ‘তিতাস-৩১’ নামের এই কূপ খননের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম রোববার উদ্বোধন করা হয় সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায়।
পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান এবং বিজিএফসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামানিক উপস্থিত ছিলেন। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডে দুটি গভীর কূপ খনন করা হচ্ছে। এর মধ্যে তিতাস-৩১ কূপটির কাজ শেষ করতে প্রায় ২১০ দিন সময় লাগতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, খনন কার্যক্রম সফল হলে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে, যা বিদ্যমান ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে।
প্রায় ৫৬০০ মিটার গভীরতায় খনন করা হবে এই কূপ। ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ৩৭০০ থেকে ৫৬০০ মিটার পর্যন্ত চারটি সম্ভাব্য স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি যাচাই করা হবে।
বর্তমানে বিজিএফসিএল-এর অধীনে গ্যাস অনুসন্ধান, উন্নয়ন কূপ খনন এবং সাইসমিক জরিপসহ একাধিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে একই প্রকল্পের আওতায় তিতাস ফিল্ডে ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর কূপ এবং গাজীপুরের কামতা ফিল্ডে আরেকটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ১,২৫০ কোটি টাকার ওই প্রকল্প থেকে দৈনিক প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

মতামত দিন