জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

ট্রেনে চালু হচ্ছে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

গণপরিবহনে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইটভিত্তিক উচ্চগতির সংযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)। প্রাথমিক পরীক্ষার সফলতার পর এখন আন্তঃনগর ট্রেনে এই সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ১৩ মার্চ প্রথমবারের মতো চলন্ত ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু করা হয়। পর্যটক এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেসে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা পরীক্ষামূলকভাবে দেওয়া হয়।

প্রতিটি বগিতে কিউআর কোড সংযুক্ত থাকায় যাত্রীরা সহজেই স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারছেন। এই প্রক্রিয়ায় কোনো অতিরিক্ত সেটআপ ছাড়াই সংযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

পরীক্ষামূলক সময়ে যাত্রীরা মোট প্রায় ১১ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে যেসব রুটে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে এই সেবা তুলনামূলক স্থিতিশীল সংযোগ দিতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেক যাত্রী দীর্ঘ যাত্রাপথে ভিডিও দেখা ও অনলাইন কাজ চালানোর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

এই সাফল্যের ভিত্তিতে এখন সেবাটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একক সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেন, বাস ও ফেরিতে একই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ইন্টারনেট সুবিধা নেওয়া যাবে।

তবে প্রকল্পটির সামনে কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। চলন্ত যানবাহনে যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, সংযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং দ্রুত মেরামতের সীমাবদ্ধতা এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ইমাদুর রহমান জানান, পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, যা দেশে সার্বক্ষণিক সংযোগ ব্যবস্থার চাহিদাকে স্পষ্ট করে।

এদিকে দেশের দুর্গম অঞ্চলগুলোতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ব্যবহারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। সীমান্ত এলাকা, হাওর ও নেটওয়ার্কবিহীন অঞ্চলে ইতোমধ্যে ১১১টি পয়েন্টে এই সেবা চালু করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করে ৬৬টি টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচার সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্যাটেলাইট সেবা রপ্তানির সম্ভাবনাও যাচাই করছে কর্তৃপক্ষ।

মতামত দিন