৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় হ্রাসের নির্দেশনা দিয়ে সরকারের পরিপত্র জারি।
বাংলাদেশ সরকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও অস্থির পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে খরচ কমানোর নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রটি জারি করা হয় এবং সোমবার (১৩ এপ্রিল) তা প্রকাশ করা হয়েছে।
পরিপত্রে সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়।
এর আগে ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভা বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি ও সার খাতে এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই আলোচনায় সরকারি ব্যয় কমানো এবং অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি সাশ্রয়, অফিস সময় কমানো এবং বিভিন্ন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলোও ওই বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অফিস সময় এক ঘণ্টা কমানো এবং দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধের সময়সীমা নির্ধারণসহ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, পরিচালন ব্যয় হ্রাসে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত—
১. সরকারি গাড়িতে মাসিক জ্বালানি বরাদ্দের ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
২. সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে।
৩. অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় (প্রশিক্ষণ ব্যতীত) ৫০ শতাংশ কমানো হবে।
৪. সভা ও সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সেমিনার/কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ কমাতে হবে।
৫. ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
৬. সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ বন্ধ থাকবে।
৭. সরকারি দপ্তরে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
৮. আবাসিক ভবনের শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কমানো হবে।
৯. ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ কমানো হবে।

মতামত দিন