আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের একচুলও ছাড় না দেওয়ায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি: আরাগচি।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেও ব্যর্থ হয়েছে। আলোচনার ব্যর্থতার জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র অনমনীয় অবস্থান গ্রহণ, বারবার নীতি পরিবর্তন এবং অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করায় কোনো ধরনের সমঝোতা সম্ভব হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি বলেন, গত ৪৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনায় ইরান পূর্ণ সদিচ্ছা নিয়েই অংশ নিয়েছিল। তাঁর দাবি, ইসলামাবাদে প্রায় চুক্তি স্বাক্ষরের পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে যায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, সদিচ্ছার জবাব সদিচ্ছা হলেও শত্রুতার জবাব হবে শত্রুতা।

একই সুরে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের কর্তৃত্ববাদী মনোভাব পরিত্যাগ করে এবং ইরানি জাতির অধিকারের প্রতি সম্মান দেখায়, তাহলে এখনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে।

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনী অবরোধ আরোপ করবে। পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ১৩ এপ্রিল সোমবার বিকেল থেকে ইরানের সব বন্দরে এই অবরোধ কার্যকর করা হবে, যা সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। তবে পারস্পরিক বা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রণালির ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, এ ধরনের অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে দমন করা যাবে না। তাঁর দাবি, আলোচনায় তেহরান ইতিবাচক প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটন তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।

গালিবাফ আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ চায়, ইরান তার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আর যদি তারা আলোচনার পথে ফিরে আসে, তবে ইরানও যুক্তির ভিত্তিতেই সাড়া দেবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের ইচ্ছাশক্তি পরীক্ষা করতে চাইলে তাদের আরও কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

মতামত দিন