মঙ্গল গ্রহকে মানুষের বসবাসযোগ্য করতে সময় লাগবে হাজার বছর।
এতদিন ধারণা ছিল, মঙ্গল গ্রহকে মানুষের বসবাসযোগ্য করতে সময় লাগবে হাজার বছর। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে এই সময় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব—এমনকি কয়েক দশকের মধ্যেই বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মঙ্গলের মাটিতে থাকা লৌহ ও অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করে তৈরি ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে গ্রহটির তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ানো যেতে পারে। বর্তমানে যেখানে মঙ্গলের গড় তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে বিশেষ ধরনের কণা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে দিলে শক্তিশালী গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।
গবেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে মঙ্গলের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বাড়তে পারে।
আগে মঙ্গলকে উষ্ণ করার জন্য পৃথিবী থেকে গ্যাস পাঠানোর ধারণা থাকলেও সেটি ছিল ব্যয়বহুল ও কঠিন। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মঙ্গলের নিজস্ব উপাদান দিয়েই এই কাজ সম্ভব। তৈরি করা কণাগুলো বায়ুমণ্ডলে ভেসে থেকে তাপ আটকে রাখবে এবং পৃষ্ঠে ফিরিয়ে দেবে, ফলে ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়বে।
এই পদ্ধতি আগের তুলনায় অনেক কম শক্তি ব্যয় করবে। যদিও এতে সঙ্গে সঙ্গে বসবাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি হবে না, তবে তরল পানির অস্তিত্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে—যা ভবিষ্যৎ মানব বসতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গবেষণায় ইতোমধ্যে দেখা গেছে, মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন আলাদা করা সম্ভব। পরবর্তী ধাপে সেখানে বিশেষ ধরনের অণুজীব বা জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত উদ্ভিদ বসানো হলে তারা অক্সিজেন উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে।
তবে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে মঙ্গলের দুর্বল বায়ুমণ্ডল। গ্রহটিতে কোনো শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র না থাকায় সূর্যের বিকিরণ সহজেই বায়ুমণ্ডলকে ক্ষয় করে। এ সমস্যা সমাধানে গবেষকেরা মঙ্গল ও সূর্যের মাঝামাঝি একটি কৃত্রিম চৌম্বকীয় ঢাল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন, যা গ্রহটিকে সুরক্ষা দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, নতুন এই ধারণা সফল হলে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব বসতির পথ অনেকটাই দ্রুত খুলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
মতামত দিন