অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির প্রভাবে তেলের বাজারে ধস, একদিনেই বড় পতন।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, করোনাভাইরাস মহামারির শুরুর পর এটিই সবচেয়ে বড় দৈনিক দরপতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একদিনেই প্রায় ১৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ঘরে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুড-এর দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়, যা বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ফলে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাই এই পতনের মূল কারণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার খবর বাজারে ইতিবাচক বার্তা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বিপুল সংখ্যক তেলবাহী জাহাজ এখন গন্তব্যে যেতে পারবে—এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের আচরণে প্রভাব ফেলেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পতন দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। তাদের মতে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি এখনো পুরোপুরি কাটেনি, ফলে ভবিষ্যতে আবারও অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। অবকাঠামোগত ক্ষতি, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং মজুত সংকটের কারণে কয়েক মাস পর্যন্ত সরবরাহ সীমিত থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে, যা সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মতামত দিন