আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ থামাতে তেহরান ১০ দফা পরিকল্পনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও চলমান সংঘাত ঘিরে দীর্ঘ আলোচনার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির একটি কাঠামো সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে একটি ‘বাস্তবসম্মত’ প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যার ভিত্তিতে সামরিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই পরিস্থিতিকে নিজেদের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত তেহরানের প্রস্তাব বিবেচনায় নিতে বাধ্য হয়েছে।

এই প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আগামী ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

ইরানি সূত্র অনুযায়ী, যুদ্ধ থামাতে তেহরান একটি ১০ দফা পরিকল্পনা দিয়েছে। এতে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার মতো শর্ত রয়েছে। এছাড়া ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, হামলা বন্ধ করা এবং যেকোনো চুক্তিকে আন্তর্জাতিকভাবে বাধ্যতামূলক করার দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল একে দেশের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল পরিবহন হয়, যা চলমান সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যেই ব্যাহত হয়েছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায় করা হবে এবং সেই অর্থ যুদ্ধ-পরবর্তী অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে।

এ বিষয়ে মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি সতর্ক করে বলেছেন, এমন কোনো চুক্তি যদি ইরানকে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দেয়, তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সব শর্ত যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে—এমন সম্ভাবনা কম। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, আসন্ন বৈঠকেই আলোচনার মূল ভিত্তি নির্ধারিত হবে।

এখন আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি ১০ এপ্রিলের বৈঠকের দিকে, যেখানে বোঝা যাবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমবে নাকি আরও বাড়বে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

মতামত দিন