পুরনো রাজনৈতিক সিস্টেম থাকলে, যেকোনো ব্যক্তিই হাসিনা হতে পারে: হাসনাত আবদুল্লাহ।
নিজেস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা–৪ আসনের ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, যদি ক্ষমতাসীনরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার বাধাগ্রস্ত করে, তবে চব্বিশের মতো নতুন একটি গণ–অভ্যুত্থান কোনো না কোনো সময় ঘটতে পারে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত বলেন, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান ছিল ব্যক্তিগত পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রকাঠামোর মূল পরিবর্তনের প্রয়াস।
হাসনাত সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত নাগরিক সংলাপে এই মন্তব্য করেন। সংলাপের শিরোনাম ছিল: ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল ও গুম প্রতিরোধ/প্রতিকার অধ্যাদেশ স্থগিত: সুশাসন ও মানবাধিকারের অগ্রযাত্রার প্রতি হুমকি’, যা আয়োজন করে ভয়েস ফর রিফর্ম।
হাসনাত মন্তব্য করেন, রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন না হলে দেশ আবারও অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। তিনি গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর কষ্টের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, মানুষ এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে কাউকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আর ঘটবে না।
মানবাধিকার কমিশনকে মন্ত্রণালয় বা সরকারি নিয়ন্ত্রণের অধীনে রাখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যদি মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ যথাযথভাবে কার্যকর না হয়, তবে ২০০৯ সালের আইন অনুযায়ী তদন্তের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে যাবে। এর ফলে পুলিশ হত্যার মতো বিষয়গুলোর তদন্ত পুলিশের হাতে থাকা যাবে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
সংলাপের সঞ্চালক ছিলেন ফাহিম মাশরুর। এতে বক্তব্য দেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী মানজুর–আল–মতিন, যিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দ্রুত গৃহীত হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী আইন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে রয়েছে। তিনি সরকারকে দ্রুত বিচার বিভাগ স্বাধীন করার আহ্বান জানান।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান।
মতামত দিন