আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে স্থল অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গ দেবে না ইসরায়েল।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিভিন্ন পথ খতিয়ে দেখছে। যদিও বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবুও আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বড় ধরনের যুদ্ধ নয়, বরং সীমিত আকারের স্থল অভিযান নিয়ে ভাবছে। এতে স্বল্প সময়ের জন্য কয়েক হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই উদ্যোগে এখনো সবুজ সংকেত দেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

অন্যদিকে অ্যাক্সিওস জানায়, ইরানের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানার সম্ভাব্য পরিকল্পনাও আলোচনায় আছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী কিংবা পারস্য উপসাগরের কৌশলগত দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে তেল রপ্তানির কেন্দ্র খারগ দ্বীপ

সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ইরান ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন

এদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি বদলাতে চাইলে স্থল অভিযান প্রয়োজন হতে পারে। যদিও তিনি সরাসরি কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—এই সংঘাতে ইসরায়েল কি সরাসরি অংশ নেবে? বিশ্লেষকদের মতে, সেটি হওয়ার সম্ভাবনা কম। এতে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, কারণ অনেকেই মনে করছেন, ইসরায়েলের স্বার্থ জড়িত থাকলেও ঝুঁকি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী।

এখন পর্যন্ত সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে, যা জনমতকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটি-এর জরিপ বলছে, বেশিরভাগ নাগরিক এই ধরনের যুদ্ধে যেতে অনিচ্ছুক।

তবে দৃশ্যমানভাবে পেছনে থাকলেও ইসরায়েলের ভূমিকা একেবারে শূন্য নয়। মধ্যপ্রাচ্য ফোরামের নির্বাহী পরিচালক গ্রেগ রোমান মনে করেন, সংঘাতের শুরুতে ইসরায়েলের পদক্ষেপই ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করেছে এবং পরবর্তী পরিকল্পনার পথ তৈরি করেছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সহায়তাও দিয়েছে ইসরায়েল—বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত অবস্থানগুলো নিয়ে।

তবুও সরাসরি যুদ্ধে নামার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জিউইশ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অব আমেরিকা-এর ব্লেইজ মিসজটাল মনে করেন, অতীতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও এবার ইসরায়েল মাটিতে সেনা পাঠাবে না।

এর প্রধান কারণ নিরাপত্তা চাপ। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ-এর হুমকির কারণে লেবানন সীমান্তে বড় সেনা উপস্থিতি বজায় রাখতে হচ্ছে। পাশাপাশি গাজা ও পশ্চিম তীরেও তাদের সক্রিয়তা রয়েছে।

তবে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকার সম্ভাবনাও নেই। বিশ্লেষকদের ধারণা, সীমিত গোপন অভিযান বা বিশেষ বাহিনীর তৎপরতার মাধ্যমে ইসরায়েল যুক্ত থাকতে পারে।

সব দিক বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, এটি অনাগ্রহ নয়—বরং যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন সামরিক পরিকল্পনায় দায়িত্ব ভাগাভাগির একটি কৌশল।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

মতামত দিন