যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আশঙ্কা করছেন—এই জলপথ জোর করে খুলতে গেলে সংঘাত নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে চলে যেতে পারে। তার পরিকল্পনা ছিল সীমিত সময়ের মধ্যে অভিযান শেষ করা, যা দীর্ঘ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
সাম্প্রতিক মূল্যায়নে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে ধারণা তৈরি হয়েছে, ইরানের নৌ সক্ষমতা দুর্বল করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে আঘাত হানার মতো প্রধান লক্ষ্যগুলো অনেকটাই অর্জিত হয়েছে। এ অবস্থায় সামরিক চাপ কমিয়ে ভিন্ন পথে এগোনোর চিন্তা চলছে।
এখন ওয়াশিংটনের নজর কূটনৈতিক কৌশলের দিকে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্য চলাচল স্বাভাবিক করতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বদলে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে ইঙ্গিত মিলছে, প্রয়োজনে এই জলপথ খোলার দায়িত্ব মিত্র দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে সামনে রেখে নিজে পেছনে থাকার কৌশল নিয়েও ভাবা হচ্ছে।
যদিও সামরিক বিকল্প এখনো টেবিলে রয়েছে, তবুও তাৎক্ষণিকভাবে সংঘাত প্রশমিত করা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা—এটিই ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অবস্থান পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। কারণ, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এটি বন্ধ থাকা বা আংশিক নিয়ন্ত্রণে থাকা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত সংঘাত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত মিত্রদের মধ্যেও ভিন্নমত তৈরি করতে পারে—বিশেষ করে যেসব দেশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মতামত দিন