জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

তেল মজুত ও কারসাজি ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে—এমন তথ্য সামনে আসার পর সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছে সরকার। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও সীমান্তপথে তেল পাচার ঠেকাতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকার দলীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য তুলে ধরেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও দেশের ভেতরে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত ভর্তুকিও দেওয়া হচ্ছে। তবু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ অবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে মজুতদারি ও মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা প্রতিরোধে কাজ করতে বলা হয়েছে তাদের।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশের জ্বালানি মজুদ স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে রয়েছে। বড় আকারের তেলবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে, আরও সরবরাহ আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

এদিকে আসন্ন সংসদ অধিবেশনে জ্বালানি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্ব পায়। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সড়ক ও রেল দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয় এবং কারণ নির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা নেওয়া হয়।

এছাড়া সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মন্ত্রীদের নিয়মিত তথ্য বিনিময়ের একটি নতুন পদ্ধতি চালুর বিষয়েও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে, যাতে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়।

সংসদীয় কমিটি গঠন ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা আগামী বৈঠকগুলোতে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মতামত দিন