আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে প্যারাস্যুট অভিযানের প্রস্তুতি ওয়াশিংটনের, নামবে ২ হাজার মার্কিন সেনা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিকল্প খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির বিশেষ প্রশিক্ষিত প্যারাট্রুপার বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় দুই হাজার সেনা প্যারাসুটের মাধ্যমে ইরানের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার স্থলসেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর বিষয়েও ভাবছে ওয়াশিংটন।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলার ধারাবাহিকতায় সংঘাতের বিস্তার ঘটে। এখন স্থলবাহিনী যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল সামরিক ইউনিট, যারা স্বল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মোতায়েন হতে সক্ষম। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বিমানঘাঁটি, বন্দর বা কৌশলগত স্থাপনা দখলে তাদের দক্ষতা দীর্ঘদিনের।

হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব ধরনের সামরিক বিকল্প খোলা রাখছেন। এ সময় প্রায় পাঁচ হাজার মেরিন সদস্য নিয়ে দুটি অ্যাম্ফিবিয়াস আক্রমণ দলও ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য অভিযানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর নিয়ন্ত্রণ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন কেশম দ্বীপ এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে, যেখান থেকে নৌপথে হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

আরেকটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছে খারগ দ্বীপ, যা ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। এই দ্বীপে অভিযান চালানো হলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব অভিযানে ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। বিশেষ করে সংকীর্ণ জলপথ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা অভিযানে অংশ নেওয়া বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরও একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা হিসেবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর কথা আলোচনায় থাকলেও সেটিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে সামরিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত হিসাব-নিকাশ দ্রুত এগোচ্ছে—যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

মতামত দিন