অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

তেল সংকট নাকি সরবরাহ জটিলতা? রাজধানীর পাম্পে হাহাকার।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ঈদের ছুটি শেষ হতেই রাজধানীর বহু পেট্রোল পাম্পে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক ভিড়। কোথাও দীর্ঘ যানবাহনের লাইন, কোথাও আবার ঝুলছে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড।

মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের মধ্যে একটাই প্রশ্ন—দেশে উৎপাদন থাকলেও কেন হঠাৎ জ্বালানি সংকট?

জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারে অনিয়ম এবং আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত ক্রয়ের ফল। তাদের মতে, উৎপাদন বাড়লেও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নজরদারি না থাকলে এমন পরিস্থিতি বারবার দেখা দিতে পারে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে পেট্রোলের সম্পূর্ণ চাহিদা দেশেই পূরণ হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৪ লাখ ৬২ হাজার টন পেট্রোলের চাহিদার বিপরীতে পুরোপুরি দেশীয় উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সরবরাহ করেছে একটি অংশ, বাকি অংশ এসেছে বেসরকারি রিফাইনারি থেকে।

অকটেনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে দেশে উৎপাদন হলেও পুরো চাহিদা মেটাতে আমদানির প্রয়োজন হয়। গত অর্থবছরে প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে বিপিসি আমদানি করেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অকটেন।

গত কয়েক বছরে জ্বালানির ব্যবহারও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। পেট্রোল ও অকটেন উভয়ের চাহিদাই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

পাম্প মালিকদের অভিযোগ, সংকটের বড় কারণ সরবরাহ চেইনে অনিয়ম। তাদের দাবি, কিছু বেসরকারি রিফাইনারি পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও বাজারে পণ্য ছাড়ছে না, ফলে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট পাম্পে অকটেনের জন্য চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আগে যেখানে নিয়মিত বড় পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যেত, এখন তা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতাই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। অল্প সময়ের চাহিদা একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন থাকলেও বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা থাকলে সংকট তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই শুধু উৎপাদন নয়, বরং সরবরাহ শৃঙ্খলে কঠোর নজরদারি জরুরি।

সরকার ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে এবং অতিরিক্ত কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি সাময়িক হলেও নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে বাজার তদারকি, সরবরাহ স্বচ্ছতা এবং ভোক্তা আচরণ—এই তিনটি দিকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

মতামত দিন