আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অবস্থান পরিবর্তন, পিছু হটছে মার্কিন রণতরী।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র যে বিশাল সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছিল, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল একটি আধুনিক বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ। গ্রিসের একটি ঘাঁটি থেকে যাত্রা করে এটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায়ও পৌঁছেছিল।

তবে অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনায় যুদ্ধক্ষেত্রে এর ভূমিকা থমকে গেছে। জাহাজটির ভেতরের লন্ড্রি অংশে আগুন লাগার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ফলে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া স্থগিত রেখে এটি আবার ঘাঁটির দিকে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ফেব্রুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে আলোচনা চলাকালীনই মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সংঘাত শুরু হলে এসব জাহাজ থেকেই অধিকাংশ বিমান হামলা পরিচালিত হয়।

কিন্তু মার্চের মাঝামাঝি লন্ড্রি ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত দুই সেনা আহত হন। আগুনে জাহাজের ভেতরের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও বহু সংখ্যক শয্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এর পাশাপাশি আরও বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায়। পাইপলাইনের ত্রুটির কারণে জাহাজের অনেকগুলো টয়লেট ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, সমুদ্রে থেকে এ ধরনের জটিল ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব নয়; এজন্য জাহাজকে ডকইয়ার্ডে নিতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো যুদ্ধজাহাজ টানা ছয় মাসের বেশি সমুদ্রে অবস্থান করার কথা নয়। অথচ এই জাহাজটি প্রায় নয় মাস ধরে টহলে রয়েছে, যার ফলে নাবিকদের ওপরও চাপ বেড়েছে।

সব দিক বিবেচনায় নিয়ে জাহাজটিকে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে আবারও এটি অভিযানে যুক্ত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র : এএফপি

মতামত দিন