ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে স্বীকার করলেন জাতিসংঘ।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলে আবারও উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তেহরানকে ঘিরে চলমান সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ প্রধান আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
ইরানি সূত্রগুলো দাবি করেছে, হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাধারণ নাগরিকও রয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা স্থাপনাসহ বিপুল সংখ্যক বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। ইরানের দাবি, নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ইরান আরও সতর্ক করে বলেছে, কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলায় সহায়তা করলে সেসব স্থানও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরপেক্ষ থাকার ওপর জোর দিয়েছে তেহরান।
এদিকে জাতিসংঘের এই অবস্থান কূটনৈতিকভাবে ইরানের পক্ষে কিছুটা সহায়ক হলেও বাস্তবে সংঘাত কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
মতামত দিন