ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে হামলা স্থগিত করল ইসরায়েল।
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন এক কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পর ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভবিষ্যৎ হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
জেরুজালেমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু জানান, আপাতত ইরানের গ্যাসক্ষেত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় কোনো নতুন সামরিক অভিযান চালাবে না ইসরায়েল। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তবে এই সিদ্ধান্তের পরও অঞ্চলে উত্তেজনা কমেনি। জেরুজালেম ও তেহরান—উভয় শহরেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, তাদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন হামলা হলে তেহরান আর সংযম দেখাবে না। সেই হুঁশিয়ারির পর থেকেই পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়।
এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, সৌদি আরব এবং বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় আমিরাত ও বাহরাইন ইরানকে দায়ী করেছে।
একটি মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত শুরুর পর ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩,১৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, কাতারের রাস লাফান জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী এই হামলাকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
মতামত দিন