কাতারের গ্যাসকেন্দ্রে হামলা, জ্বালানি বাজারে নতুন শঙ্কা।
উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই দফা হামলায় এই বৃহৎ এলএনজি কেন্দ্র ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের অধিকাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই কেন্দ্র থেকেই প্রক্রিয়াজাত ও বিদেশে পাঠানো হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের বিঘ্ন তৈরি হলে এর প্রভাব সরাসরি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের জন্য ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের তথ্যে উঠে এসেছে, পাকিস্তান প্রায় পুরো এলএনজি আমদানির জন্য কাতারের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের বড় একটি অংশ এবং ভারতের উল্লেখযোগ্য অংশের গ্যাস সরবরাহও একই উৎস থেকে আসে। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও দৈনন্দিন জ্বালানি ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে।
এর আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কিছু সময়ের জন্য উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করেছিল। সাম্প্রতিক হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়ায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই শিল্পনগরী কেবল গ্যাস রপ্তানির জন্য নয়, সার, সালফার এবং হিলিয়াম উৎপাদনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি খাতে ব্যবহৃত হিলিয়ামের বড় অংশ এখান থেকেই সরবরাহ হয়, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ভূমিকা রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; কৃষি, শিল্প এবং প্রযুক্তি খাতেও এর বিস্তৃত প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মতামত দিন