নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীদের অনুমোদিত কার্যক্রম,যা যা করতে পারবে আর যা যা করতে পারবে না
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একইদিনের গণভোটের প্রস্তুতি হিসেবে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা। নির্বাচনী সময়কাল মোট ২০ দিন, যা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। প্রচারণার সময় প্রার্থীরা বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে, তবে ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতিতে আঘাত, উসকানিমূলক বা ঘৃণামূলক বক্তব্য, প্রতিপক্ষকে হেয় করা বা কুরুচিপূর্ণ ভাষা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
জনসভা বা সমাবেশ আয়োজনে কোনো বাধা নেই, তবে ২৪ ঘণ্টা আগে তারিখ ও সময় লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সাধারণ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে ইসি ব্যবস্থা নেবে। সড়ক বা মহাসড়কে জনসভা ও পথসভা হলেও একইভাবে আইন প্রয়োগ হবে।
প্রচার সামগ্রীতে পলিথিন বা রেকসিন ব্যবহারও নিষিদ্ধ। ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে, তবে সেগুলো হবে সাদা-কালো এবং আকারে সীমাবদ্ধ থাকবে। ব্যানারের সর্বোচ্চ মাপ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট ও হ্যান্ডবিল এ-ফোর সাইজের বেশি হবে না। ফেস্টুন সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি।
প্রার্থী কেবল নিজের ছবি ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন। ছবি হবে পোর্ট্রেট আকারে, সর্বোচ্চ ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটার। দলীয় প্রার্থীরা শুধুমাত্র দলের প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা তিন মিটারের বেশি হতে পারবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারের অনুমতি থাকবে, তবে আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পেজ/অ্যাকাউন্টের তথ্য, ই-মেইল ও পরিচয় জমা দিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অসৎ প্রচারণা করা যাবে না।
ঘৃণামূলক, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। গুজব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে এবার নতুন ধারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
প্রার্থীরা কোনো যানবাহন নিয়ে মিছিল, জনসভা বা মশাল শোডাউন করতে পারবেন না। হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযানও শুধু দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। ভোটার স্লিপে কোনো প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক দেখানো যাবে না। তোরণ নির্মাণ বা আলোকসজ্জাও নিষিদ্ধ।
বিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও কমিশনের কাছে থাকবে।
মতামত দিন