বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধকে ঘিরে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মহান বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর) উদযাপনের জন্য সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। বিশেষ দিনটিতে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত শুধু ভিভিআইপি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বের না হওয়া পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন না।
বিজয় দিবসের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা এতে অংশ নেবেন। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলেরও উপস্থিতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।
এদিন সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোকসজ্জা করা হবে। তবে ১৪ ডিসেম্বর রাতের আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ। প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলোতে ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশান লাগানো হবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে প্যারাস্যুটিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বরেকর্ড গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকা হাতে নেমে স্বাধীনতার ৫৪ বছর উদযাপন করবেন। বেলা ১১টা থেকে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে সশস্ত্র বাহিনীর ফ্লাই পাস্ট এবং বিশেষ ব্যান্ড-শো অনুষ্ঠিত হবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের সব জেলা-উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আক্রোবেটিক শো, যাত্রাপালা ও বিজয় দিবসের গান পরিবেশিত হবে।
সারা দেশে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ফুটবল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, কাবাডি ও হাডুডু খেলায় অংশগ্রহণ করবে। রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারকে সংবর্ধনা দেবেন। জেলা-উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
সকল হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রীতিভোজের আয়োজন হবে। টেলিভিশন ও বেতারে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। দেশের শিশুপার্ক ও জাদুঘর বিনা টিকিটে উন্মুক্ত থাকবে, সিনেমা হলগুলোতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।
চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পাগলা ও বরিশাল ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
একইসঙ্গে সারা দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও দেশের শান্তি ও অগ্রগতির জন্য বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা আয়োজন করা হবে।

মতামত দিন